টানা তৃতীয় সাফ শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে দেখা গেল ভিন্ন এক চিত্র। আক্রমণে সুযোগ নষ্ট, রক্ষণে একের পর এক ভুল—সব মিলিয়ে সাত বছর পর আবারও ভারতের কাছে হার মানতে হলো বাংলাদেশের মেয়েদের। ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে পিটার বাটলারের দল।
মালদ্বীপকে হারিয়ে দুই দলই আগেই নিশ্চিত করেছিল সেমিফাইনাল। তাই ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে। কিন্তু শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। ম্যাচের মাত্র দেড় মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। তবে নিশ্চিত গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
সুযোগ নষ্টের সেই আক্ষেপ আরও বাড়ে ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে। ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে ভারতের পেয়ারি সাসা দারুণ এক শটে জালে বল পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ভারতের ১-০ গোলের লিড নিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। কিন্তু ৭৮তম মিনিটে বক্সের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে বসেন সুরমা জান্নাত। পেনাল্টি থেকে লিন্ডা কম ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ম্যাচ কার্যত বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যায়।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে রক্ষণভাগের আরেকটি ভুলের সুযোগ নেয় ভারত। ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে বক্সে ফাঁকায় থাকা মালবিকা সহজেই জালে বল জড়িয়ে নিশ্চিত করেন ৩-০ গোলের জয়।
ম্যাচজুড়ে বাংলাদেশের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও শামসুন্নাহার জুনিয়ররা উইং দিয়ে কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও সেগুলো কাজে লাগানোর মতো কার্যকর ফিনিশার পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ভারতের বেঞ্চের খেলোয়াড়রা ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।
এই হারের ফলে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। আগামী ৩ জুন শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী নেপাল। টানা তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে রক্ষণভাগের দুর্বলতা ও ফিনিশিং সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতেই হবে পিটার বাটলারের দলকে।